ডাবল সেঞ্চুরী করলাম – দুইশততম পোস্ট – আমার ভার্চুয়াল ডায়েরী


টেকনোলজী রিলেটেড অনেক পোস্ট করলাম। বিশেষ করে কম্পিউটার বিষয়ে। ক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে যতটুকু পেরেছে লেখালেখি করেছি। বলতে পারেন এটা আমার হবি। সব সময় লিখতে ভাল লাগে না। আবার যখন লিখতে ইচ্ছা হয় তখন সারাদিন বসে লিখি। এ পোস্টটা আমার ফ্রেন্ডদের জন্য লেখা। আপনি যদি আমাকে চিনে না থাকেন তাহলে কষ্ট করে লেখাটা পড়ে সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। কারণ এখানে আমি সব হাবিজাবি জিনিস লিখবো এবং সব অপ্রয়োজনীয় জিনিস ও নিজের কথাগুলোও।

ছোট বেলা পার্ট ওয়ান-

ছোটবেলায় আম্মু একবার তিনমাস হেপাটাইটিস বি তে ভুগেছিলো। তো তখন হইতেই ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হবার। কিন্তু মনিপুর স্কুলে ভর্তি হবার পর সব পরিবর্তন হয়েগেছে। কারন তখন এতকিছু টার্গেট করার সময় পাইনি। স্কুলে পড়া অবস্থায় ক্লাস ফোরে দিপু নামে এক ফ্রেন্ডকে নিয়ে আমতলা মসজিদের পাশে ফ্রেন্ডশীপ চিরস্থায়ী রাখার শপথ ও করেছিলাম!

বিজ্ঞানী টাইটেল-

ক্লাস সিক্স হতেই ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিট নিয়ে শুরু হয়েছিলো ঘাটাঘাটি। তখনই ক্লাস সিক্সে সামান্য বানানো টর্চ দেখে ক্লাসের মাতুব্বর স্যার বিজ্ঞানী নাম দিয়েছিলো। যদিও আরো ভাল ভাল জিনিস বানিয়েছিলাম, সেগুলা দেখাই নাই। তবে নাম দিলেই তো আর বিজ্ঞানী হয়া যায় না সেটা আমিও জানি। তবুও স্কুলে সবার নাম থাকে আলাদা আমিও একটা পেয়েছিলাম।

কম্পিউটার না কিনে দেয়ার বেদনা-

ক্লাস এইটে কম্পিউটার কিনে দেয়ার কথা ছিলো কম্পিউটার। কিন্তু ক্লাস এইটের ফাইনাল এক্সাম শেষে আব্বুর এক কাজিন আসছিলো। তো কাকায় এসে এমন কথা শুনাইসে যে কম্পিউটার এসএসসি এর আগে কিনে দিবে না। কাহিনী গুলোর মধ্যে ছিলো কম্পিউটার কিনে দেয়ার পর রেজাল্ট কার কার খারাপ হয়েছিলো, কে কে রাত জেগে দরজা আটকিয়ে পিসি চালাতো, কে কে ডাটা ক্যাবলের টাকা না খেয়ে জমাইতো, স্যার মারার সময় পিছন থেকে ডিস্ক পড়ে যেতো ইত্যাদি। এতে আমার বাসার প্রাইভেট টিউটরও তাল মিলিয়েছিলো।

কমার্স নিয়ে পড়া-

আমি সায়েন্সে পড়ি না এটা এখনও অনেকেই জানে না। আমার এক ফ্রেন্ড গনিত আর ইংলিশে ফেল করার পরও সায়েন্স নিয়ে পড়ছিলো বাট আমারে স্কুল থেকে ও বাসা থেকে পড়তে দেয় নাই। আর আমার এসবের প্রতি ইন্টারেস্ট ছিলো না। আমার হিসাব ছিলো যেখানেই ঠেলে সেখানেই যাবো। এত কিছু নিয়া মাথা ঘামাই নাই। আব্বুর বস বলতেছিলো আমার ছেলে ডাবল গোল্ডেন পাইয়া মেডিক্যালে চান্স পায় নাই। আপনি কি ডাবল এ প্লাসের গ্যারন্টি দিতে পারবেন? যদি না পারেন তাহলে কমার্সেই পড়ান।

প্রথম প্রোগ্রামিং-

কম্পিউটার ছিলো ফোর্থ সাবজেক্ট। এই সাবজেক্টটা নেয়ার জন্য জান বের হয়ে গেছে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে। অবশেষে আমরা সব ফ্রেন্ড যারা এটা নিয়ে পড়তে চেয়েছিলাম সবাই পেড়েছি। সেখানে জিলানী স্যার কম্পিউটার পড়াতো। ল্যাবের দড়জা ছিলো পশ্চিমে। কেউ দুষ্টামি করলে বা কথা নাশুনলে স্যার সবাইকে মারতো। স্যার মারার সময় দরজা লাগিয়ে পূর্বদিক হতে মারা শুরু করতো বেত দিয়ে। আর আমরা পশ্চিম দিক দিয়ে দৌড়। বেতের বাড়ি গায়ে পড়লেও আমরা অনেক এনজয় করতাম ! তো পাঞ্জেরী গাইড দেখে প্রথম কোড লিখি- Text1.Text=”Burger Mashuk” এটা বাটন কমান্ডে লিখি। আমার এক ফ্রেন্ড ছিলো নাম মাশুক। তো সবাই তাকে বার্গার মাশুক বলে ডাকতো। ওকে নিয়ে মজা করার জন্যই ল্যাবে এই প্রোগ্রামটি গাইড হতে শিখে গিয়ে রান করি। বাটনে ক্লিক করলেই লেখা আসবে বার্গার মাশুক !

কম্পিউটারের আগমন-

এসএসসি এর লাস্ট পরীক্ষার আগেই কম্পিউটার চলে এসেছে। নাহ ঘরে নয়, আব্বুর অফিসে ! ইজ্ঞিনিয়ার সেট করে রেখে দেয়। এক্সাম যেদিন শেষ তারপরের দিন আব্বুর অফিস মিরপুর সাড়ে এগারো হতে ভ্যানে করে মনিপুরের বাসায় নিয়ে আসি। মনিপুরে রাস্তার ঝাকি সব গুলা আমার কম্পিউটারে নয় হৃদয়ে লেগেছিলো, এই বুঝি নষ্ট হয়ে গেলো। আর রাস্তার পাশের দোকানদাররা তারপর পরিচিত মানুষেরা খালি কোরবানীর গরুর মত দাম জিজ্ঞাসা করছিলো। সেইরকম মজা। পিসি সেট করার পড় দোতলার আরেক ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে পিসির কীবোর্ডের কীতে প্রেস করার সাথে সাথেই চিল্লাইয়া কইলাম নষ্ট কইরা ফালাইবা তো। যদিও সে আমার আগে হতেই পিসি চালায় ! আর পুরো বিল্ডিংয়ে আমরা ছাড়া সবাই ইঞ্জিনিয়ারের পরিরবারে সদস্য। তাই বার বার ইঞ্জিনিয়ার বলতেছি!

ইলেক্ট্রিক্যাল কাজে ধ্বস-

মনিপুরে একবার বৃষ্টিতে আমার আলমারীর নিচের তাকের সব ইলেক্ট্রিক্যার সরঞ্জাম পানির তলায় চলে গিযেছিলো। খাট পর্যন্ত পানি ছিলো। পরের দিন আব্বু সেখানে ইলেক্ট্রিক্যাল শকও খেয়েছিলো। শক খেয়ে পড়ে যাবার সময় হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম বাট হাত ধরে নাই। ধরলে আমিও শক খাইতাম। হাত না ধরায় রেঞ্জের বাইরে চলে আসে ফলে বেঁচে যায় আল্লাহর রহমতে। আব্বু শক খাবার আগে পিচ্চি খালি বলতেসে গান শুনবে নিথুয়া পাথারে। এর আগের রাত্রে রাত্রে মিটার ছিলো পানির নিচে। তো সেটা পরে কেন নষ্ট হয় নাই এ ব্যাখ্যা উপরের ইঞ্জিনিয়ার দিয়েছিলো। যাই হোক পিচ্চির জ্বালায় পিসি ছাড়লাম। আর সাথে সাথে মিটার ব্লাস্ট। পুরো নিচের ফ্লোর ধোঁয়া। আমি পিসির ক্যাবল খুলেই আব্বু কে নিয়া বের হয়ে গেছি। আম্মু সহ সবাই বের হয়েছে। আর এসময়ই আব্বু শক খেয়েছিলো্। আমি ভেজা দেয়ালে হাত দিয়েও শক খেয়েছিলাম তবে সেটা হালকা। আর এঘটনা ও আমার ক্লাস সিক্স হতে কেনা হাজার হাজার টাকার জিনিস পানিতে ডুবার পর হতেই বলতে পারেন ইলেক্ট্রিক্যাল লাইন থেকে সরে আসি। পরে আর আগ্রহ পাই নাই। আর আমার পিসি এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে নষ্ট হয় নাই। পরের দিনই আব্বু ইউপিএস কিনে আনে। ইউপিএস এর গায়ে এখনও তারিখ লেখা আছে – 29-07-2009।

কলেজ, বাসা পরিবর্তন ও মিরপুর দশের সিডির দোকান-

কমার্স কলেজে ভর্তির পরই ঐ ঘটনা ঘটেছিলো। আর যেহেতু আমি এখন আর মনিপুর স্কুলের স্টুডেন্ট না সেহেতু ও এলাকা ছেড়ে মিরপুর কালশীতে চলে আসি। এই স্থানান্তরটাই বলতে পারেন আমাকে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ যোগায়। কলেজে যাবার ও আসার পথে মিরপুর দশের শাহআলী মার্কেটের তিনতলার রাজ্জাক ভাইয়ের দোকানেই যেতাম বেশী। সফটওয়্যার চালানো বিভিন্ন ধরনের সেটাই ছিলো নেশা। ওই দোকানে কাস্টমার সিডি খুঁজতে আসলেই আমিই বের করে দিতাম কারন সব মুখস্থ আমার ! আর ওই দোকানে গেলেই সিডি কিনবোই মাস্ট। এখন অবশ্য নেট ইউস করার ফলে ওই দোকানে যাই না।

প্রথম ওয়েবসাইট-

মিরপুর দশে রাস্তায় পেয়েছিলাম বিশ মেগাবাইর জায়গা দিবে ফ্রী। সাথে টিউটোরিয়াল। কিনে ফেলি আশিটাকা দিয়ে বইটা। খুলেও ফেলি সাইবার ক্যাফেতে mfohs.20m.com আমি তো অবাক খাইসে ফ্রীতে খুলা যায় ওয়েবসাইট। আর আমার কাছে এইচটিএমএল টেমপ্লেটের ডিস্ক ছিলো সেটার টেমপ্লেট এডিট করেই বসিয়ে দেই। অবশ্যা কলেজের সামনের সাইবার ক্যাফেতে কাজ করায় অনেক ফ্রেন্ড দেখতে পারে। অনেক অবাকও হয় !

ফেসবুক-

ফেসবুক একাউন্ট খুলে দেয় মানিক ভাই। চালাইতোও সে। তারপর সে বলতেসে ক্লাসের এক মেয়ে নাকি বলতেসে আরেকজনের রেফার দিয়ে- ও বলছে তুমি নাকি অনেক ভাল। আমি ভয় পায়া গেসি মানিক পাকনা আবার উল্টা পাল্টা কিছু মেসেজ পাঠায় কিনা ! মাত্র কলেজে উঠলাম মানিকের সাথে তেমন পরিচয় হয় নি! তাই এক্সেস নিয়া নিজেই চালানো শুরু করি ফেসবুক। মজার ব্যাপার হলো মেসেজটা আসলেই পাঠিয়েছিলো কিনা চেক করি নাই !

কিউবি-

এসএসসি শেষ। দুই হাজার টাকা দিয়ে আম্মু কিনে দিলো কিউবি শাটল। শুরু হলো নিজের পিসিতে নেট চালানো্। প্রথম ব্লগ খুলি জুমলা দিয়ে এর পর অনেক খুলছি আর গায়েবও হয়ে গেছে। থাকবেই বা কিভাবে এত কিছু বুঝি নাকি ! তবে আমার দুইটা পোস্টের জুমলা সাইট ডট টিকে ডোমেইন নিয়া এক সপ্তাহে পেজরেংক 2 পাইছিলো। আমি নিজেই জানি না কেমনে পাইসে। বহুত টেস্ট করসিলাম। সেটা অরিজিনালই ছিলো। যাই হোক সাইটটাই জলে চলে গেসে।

ব্রডব্যান্ড-

ভর্তি হলাম নর্দান ইউনিভার্সিটিতে। এক ইয়ার পর ব্রডব্যান্ডও নিলাম। এখনও চলতেছে।

বর্তমান-

আমি আছি এটাই বর্তমান। এটা অতীত হলে বলা যাবে !

স্পেশাল ঘটনা-

ক্লাস নাইনে টাইম শিডিউল ভুল করে প্রথম এক্সাম দেইনি। এজন্য অনেক ইনসাল্ট করছে স্কুলের এসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার। এটাও বলছে এই ছেলের এই স্কুলে পড়ার কোন যোগ্যতা নেই। তবে মজা পাইছি তখন যখন বিদায়ের সময় এই টিচারই আমার হাত ক্রেস্ট তুলে দিয়েছিলো।

অনেকে ভাবতে পারেন নিজের সম্পর্কে লিখে ব্লগে দিয়ে লাভ কি? উত্তর হলো, আমি শুধু আমার ফ্রেন্ডদের আমার ভার্চুয়াল জগতে আসার কাহিনী জানাতে চেষ্টা করেছি মাত্র।

ইনশাআল্লাহ তিনশতম পোস্টে বেঁচে থাকলে কিছু লিখবো, অবশ্যই নতুন কিছু।

ফেসবুক মন্তব্য

মোঃ ফয়সাল হোসেন সোহাগ

জীবনটা কতই মধুর, যদি পাশে থাকে কেউ। বৃষ্টির টুপুর টাপুর শব্দ, পরন্ত বিকেলে হৃদয়ে মৃদু দোলা দিয়ে যায় তখন, যখন পাশে থাকে কেউ। ছোট্ট এই জীবন, সীমিত আয়ু, যান্ত্রিক পৃথিবী, যান্ত্রিক এই আমি, একটু শান্তির সন্ধানে... গুগল অথরশীপ লিংক

নিচের গুলোও আপনার ভাল লাগতে পারে...

2 টি মন্তব্য

  1. অনেক ভাল লাগলো ফয়সাল ভাইয়া। পুরনো গল্প শুনতে ভালই লাগে। আপনি আরো অনেক দূর এগিয়ে যান এই কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Google Transliteration.(To type in English, press Ctrl+g)

http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_bye.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_negative.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_scratch.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_wacko.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_yahoo.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_cool.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_heart.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif 
http://computerclubbd.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_smile.gif 
more...